শিশুর পরিপূর্ণ আহার.....
শিশু আমাদের সকলেরই প্রিয়,সেটা মা বাবার কাছেই হোক বা আত্মাীয়দের কাছে প্রিয় সে সকলের কাছে আমরা বাবা মায়েরা(বিশেষ করে মায়েরা) তাদের প্রানপাত করি সন্তান এর যত্ন করতে গিয়ে। যত্ন দুভাবে করতে পারি এক, হল শিশুকে কিভাবে পরিস্কার রাখা যায়, দুই হল শিশুর পুষ্টি। আমি আাজ শিশুর সুষম আহার নিয়েই একটু বলি,আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে অনেক শিশুই ভোগে অপুষ্টিতে কারণে অনেক এরকম মানুষ আছে যারা প্রতিদিনের আহারই যোগান দিতে পারে না, সেখানে অপুষ্টিতে ভোগা খুব স্বাভাবিক। তাও, যদি আমরা একটু সচেতন হই শিশুদের ওপর তাহলে, এই অপুষ্টি রোগকে চিরতরে নির্মূল করতে পারবো। প্রথমেই আসি, সদ্যোজাতদের কথায়। এখনও আমাদের দেশের অনেক মানুষই কুসংস্কার এ ডুবে আছেন,মানে এখনো অনেক জায়গায় সদ্যোজাতকে জল,মধু এইসমস্ত খাওয়ানো হয়ে থাকে কিন্তু আপনি এই ভুল ভুলবশতও করবেন না।সদ্যোজাতককে বুকের দুধ খাওয়ান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।ছয়মাস অব্দি শিশুকে বুক এর দুধই শুধু খাওয়ান। বুকের দুধ এর কোন বিকল্প হয় না। এই প্রসঙগে বলে রাখা ভাল যে অনেক মাকেই বলতে শোনা যায় যে তাদের নাকি বুকের দুধ হয় না। মায়েদের বলবো যে বুকের দুধ হয় না বলে কোন কথা হয় না,সিস্টেমটা এরকম ভাবেই করা থাকে। বারবার খাওয়াতে হবে হাল ছাড়লে চলবে না চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দরকার। এইসময়ে মাকে দুধ,ডিম,ছানা,মাছ না খাওয়ানো গেলেও পেট ভরে ভাত, লাউ সেদ্ধ, সাবু দানা সেদ্ধ, ডালের জল এগুলোও খাওয়ানো যেতে পারে, এগুলো খাওয়াতে গেলে খুব বেশি টাকা খরচের প্রয়োজন হয় না আমি নিজে এগুলো খেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছি।
সদ্যোজাতের কথা অনেক হল এবার আসা যাক ছয় মাসের পর শিশুকে কিরকম খাবার খাওয়ানো যায়, যাতে শিশুর পুষ্টি তো হবেই এবং সেটা আমাদের বাড়িতে বানানো খাবারেই হবে, অবশ্যই হবে।আমরা জানি আজকাল অনেক ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার বাইরে কিনতে পাওয়া যায়, বিজ্ঞাপনের দৌলতে আমরাও কিন্তু বেশ পরিচিত এগুলোর সাথে, তবে আমি বলি কি.....বাজারে কিন্তু এসব বেশ দামে বিক্রি হয়,তাই বাড়ীর রোজকার খাবার দিয়েই যদি আমরা শিশুকে পুষ্টির যোগান দিতে পারি তবে প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো বাদ দেওয়াই শ্রেয়......।
১.মুড়ি গুঁড়ো,ছোলা গুঁড়ো, চিনিগুঁড়ো ও জল (অবশ্যই ফোটানো)একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে পারেন।২.সুজি গুড়ো করে চিনি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে পারেন।৩.চাল,গুঁড়ো, বিভিন্ন মেশানো ডালের গুঁড়ো, আলু,বিভিন্ন সবজি কুকারে সিটি মেরে পেস্ট বানিয়ে নিতে পারেন, (দুপুর বেলা এটা খাওয়াতে পারেন) ৪.কমলা লেবু রস করে অল্প অল্প করে খাওয়ানো শুরু করতে পারেন।(এটা সকাল ১০-১১নাগাদ খাওয়াতে পারেন)। ৫.গরুর দুধ এ অল্প জল মিশিয়ে নিন (গরুর দুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন)হাতে গড়া রুটির ওপরের নরম অংশটা দুধের মধ্যে দিয়ে নরম করে খাওয়াতে পারেন(এটা রাতে ৮-৮.৩০মধ্যে খাওয়াতে পারেন)। এগুলোর সাথে সাথে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে ভুলবেন না কিন্তু......।সবার শেষে আর একটা কথা বলার আছে যেটা হল শিশুকে খাওয়ানোর আগে হাত অবশ্যই সাবান দিয়ে ধোবেন, নাহলে আপনি যে এতখানি কষ্ট করলেন তা বৃথা হয়ে যাবে শিশু পুষ্টি তো পাবেই না উলটে ডায়রিয়ায় ভুগবে.........।
Comments
Post a Comment